ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়: কারণ, ঘরোয়া যত্ন ও সমাধান
ALOY
ত্বকের যত্ন | 21 Oct 2026 | 9 min read

ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়: কারণ, ঘরোয়া যত্ন ও সমাধান

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠোঁটে টান টান ভাব, হাসতে গেলে চিনচিনে জ্বালা, আর কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ ঠোঁট ফেটে রক্ত। আমাদের দেশে শীতের শুকনো হাওয়া, গরমের ঘাম আর রোদ, এমনকি এসির বাতাসেও এই সমস্যা অনেকেরই চেনা। তাই

A

ALOY Beauty Desk

ALOY

ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়: কারণ, ঘরোয়া যত্ন ও সমাধান
In this article
  1. ঠোঁট ফাটে কেন? সাধারণ কারণগুলো চিনে নিন
  2. ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়: প্রতিদিনের সহজ যত্ন
  3. ঠোঁট ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়
  4. গরমে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়
  5. শীতকালে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়
  6. অতিরিক্ত ঠোঁট ফাটা হলে কী করবেন
  7. ঠোঁট ফাটা বাড়ায় যেসব ভুল অভ্যাস
  8. কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি
  9. উপসংহার

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠোঁটে টান টান ভাব, হাসতে গেলে চিনচিনে জ্বালা, আর কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ ঠোঁট ফেটে রক্ত। আমাদের দেশে শীতের শুকনো হাওয়া, গরমের ঘাম আর রোদ, এমনকি এসির বাতাসেও এই সমস্যা অনেকেরই চেনা। তাই অনেকে জানতে চান, ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় আসলে কী এবং কত দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব।

ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্য অংশের চেয়ে পাতলা, আর এতে তেল তৈরির গ্রন্থি প্রায় নেই। তাই এটি খুব সহজে শুকিয়ে যায়। অনেকে অনলাইনে "thot fata dur korar upay" খুঁজে হাতের কাছের যা পান তা-ই লাগিয়ে ফেলেন। এতে কখনও আরাম মেলে, কখনও সমস্যা আরও বাড়ে।

Sponsored

Sponsored

এই লেখায় আপনি জানতে পারবেন:

চলুন, আগে কারণগুলো বুঝে নিই, কারণ কারণ না জানলে সমাধান টেকে না।

ঠোঁট ফাটে কেন? সাধারণ কারণগুলো চিনে নিন

ঠোঁট ফাটার সমাধান খোঁজার আগে কারণটা বুঝে নেওয়া দরকার। কারণ ঠিকভাবে ধরতে পারলে ঠোঁটের যত্ন অনেক সহজ হয়, আর একই সমস্যা বারবার ফিরে আসে না।

ঠোঁটের ত্বক কেন বেশি স্পর্শকাতর

শরীরের বাকি ত্বকে তেল গ্রন্থি (oil gland) থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে আর্দ্র রাখে। ঠোঁটে এই গ্রন্থি প্রায় নেই। তাই ঠোঁটের নিজস্ব সুরক্ষা স্তর দুর্বল, আর আর্দ্রতা খুব দ্রুত বেরিয়ে যায়।

এর ওপর ঠোঁটের ত্বক অনেক পাতলা। রোদ, বাতাস বা রাসায়নিকের প্রভাব এখানে আগে পড়ে, আর ফাটলও সহজে তৈরি হয়।

আবহাওয়া ও পানিশূন্যতা

শুষ্ক বাতাস ঠোঁটের আর্দ্রতা টেনে নেয়। শীতে এটা বেশি হয়, তবে গরমেও সমস্যা কমে না। তীব্র রোদ ঠোঁট পোড়ায়, আর সারাদিন এসি ঘরে থাকলে বাতাস শুকিয়ে যায়।

পানি কম খেলে ঠোঁটে তার ছাপ পড়ে। ঘাম বা জ্বরের পর, কিংবা রোজার সময় শরীরে পানির ঘাটতি হলে ঠোঁট শুকনো ও খসখসে লাগতে পারে।

অভ্যাস ও অন্যান্য কারণ

অনেক সময় আমাদের নিজেদের অভ্যাসই ঠোঁট ফাটার বড় কারণ হয়। যেমন:

কিছু ক্ষেত্রে আয়রন বা ভিটামিন বি-এর ঘাটতি, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণা ফাটার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটলেই ঘাটতি আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। কারণ নিয়ে আরও জানতে চাইলে Mayo Clinic-এর chapped lips বিষয়ক পাতা দেখতে পারেন।

ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়: প্রতিদিনের সহজ যত্ন

ঠোঁটে তেল গ্রন্থি নেই, তাই ত্বকের অন্য অংশের তুলনায় এটি দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। এ কারণে ঠোঁট ফাটা সারাতে দিনের কিছু ছোট অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি কাজ করে। নিয়মিত মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রে এক-দুই সপ্তাহেই ঠোঁট নরম হতে শুরু করে।

পানি ও খাবারের ভূমিকা

শরীরে পানির ঘাটতি হলে ঠোঁটে তার ছাপ আগে পড়ে। সারা দিনে অল্প অল্প করে পানি খান, একসঙ্গে অনেকটা নয়। সাধারণভাবে দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি একটি ভালো লক্ষ্য, তবে গরমে বা ঘাম বেশি হলে আরও লাগতে পারে।

খাবারেও খেয়াল রাখুন:

মৃদু এক্সফোলিয়েশন

ফাটা ঠোঁটে মরা চামড়া জমলে বাম ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাই সপ্তাহে ১-২ বার হালকা হাতে স্ক্রাব করা ভালো। চামড়া টেনে ছেঁড়ার অভ্যাস থাকলে তা পুরোপুরি বন্ধ করুন, এতে ক্ষত গভীর হয়।

  1. এক চা-চামচ চিনি বা কফি গুঁড়ার সঙ্গে আধা চা-চামচ মধু বা নারকেল তেল মেশান।
  2. ঠোঁট হালকা ভেজা করে আঙুলের ডগায় ২০-৩০ সেকেন্ড গোল করে ঘষুন।
  3. কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নরম কাপড়ে চেপে মুছুন।
  4. সঙ্গে সঙ্গে বাম লাগান।

ঠোঁটে ফাটা দাগ থেকে রক্ত বা জ্বালা থাকলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন। সংবেদনশীল ত্বকে সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট।

ময়েশ্চারাইজ ও সুরক্ষা

ঠোঁটের যত্নের মূল কথা হলো আর্দ্রতা ধরে রাখা। রাতে ঘুমানোর আগে একটু বেশি করে বাম লাগান, কারণ সারা রাত ঠোঁটে আর কিছু লাগে না। দিনেও খাওয়া, মুখ ধোয়া বা কথা বলার পর আবার লাগিয়ে নিন।

কেনার সময় উপাদান দেখে নিন:

বাইরে বের হলে SPF 15 বা তার বেশি সানস্ক্রিন যুক্ত লিপ বাম বেছে নিন। রোদে ঠোঁটও পোড়ে, আর পোড়া ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে ফাটে। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর আবার লাগান। ত্বকে সূর্যের ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন Skin Cancer Foundation।

দিনে নিয়মিত পানি, সপ্তাহে একটি হালকা স্ক্রাব আর রাত-দিন বাম, এই তিনটি অভ্যাস মিলিয়েই ঠোঁটের স্থায়ী উন্নতি আসে।

ঠোঁট ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়

রান্নাঘরের কয়েকটি সাধারণ উপাদান ঠোঁটের হালকা শুষ্কতা ও ফাটায় বেশ কাজে আসে। এগুলোর কাজ মূলত ঠোঁটে আর্দ্রতা ধরে রাখা ও ত্বককে নরম করা। শুরুর আগে একটি জিনিস মনে রাখুন: প্যাচ টেস্ট ছাড়া নতুন কিছু ঠোঁটে লাগাবেন না।

মধু ও ঘি

মধু ত্বকে আর্দ্রতা টানে, আর ঘি ঠোঁটের ওপর একটি নরম আবরণ তৈরি করে যাতে আর্দ্রতা বেরিয়ে না যায়। দুটো একসঙ্গে ব্যবহার করলে ঠোঁট বেশিক্ষণ নরম থাকে।

  1. আধা চা-চামচ খাঁটি মধু ও আধা চা-চামচ ঘি পরিষ্কার আঙুলে মিশিয়ে নিন।
  2. ভেজা-ময়লা ছাড়া পরিষ্কার ঠোঁটে পাতলা করে লাগান।
  3. ১৫-২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে আলতো মুছে নিন।

রাতে ঘুমানোর আগে শুধু অল্প ঘি লাগিয়ে রাখলেও সকালে ঠোঁট নরম লাগবে। তবে মধুতে অ্যালার্জি থাকলে এটি বাদ দিন।

নারকেল তেল ও অ্যালোভেরা

নারকেল তেল ঠোঁটে তৈলাক্ত আবরণ দেয়, আর অ্যালোভেরা জেল ত্বককে শীতল ও আরামদায়ক রাখে। ফাটা ঠোঁটে জ্বালা বেশি লাগলে অ্যালোভেরা ভালো বিকল্প।

চিনির মৃদু স্ক্রাব

ঠোঁটে মরা চামড়া জমলে ময়েশ্চারাইজার ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাই সপ্তাহে ১-২ বার হালকা স্ক্রাব যথেষ্ট, এর বেশি নয়।

  1. ১ চা-চামচ মিহি চিনি, আধা চা-চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মেশান।
  2. ভেজা ঠোঁটে আঙুলের ডগা দিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড খুব আলতো করে গোল করে ঘষুন।
  3. কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘি বা নারকেল তেল লাগান।

ঠোঁট কেটে গেলে, রক্ত বেরোলে বা জ্বালা থাকলে স্ক্রাব করবেন না। আগে ক্ষত সারতে দিন।

ঘরোয়া উপায়ে যা এড়ানো ভালো

অনলাইনে অনেক টোটকা ঘোরে, যার কিছু ঠোঁটের ক্ষতি করে।

নতুন কোনো উপাদান লাগানোর আগে কবজির ভেতরে বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলা বা জ্বালা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সমস্যা না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

গরমে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়

অনেকে ভাবেন ঠোঁট ফাটা শুধু শীতের সমস্যা। কিন্তু বাংলাদেশের গরম ও ঘামের আবহাওয়াতেও ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে যেতে পারে। কারণ বুঝে যত্ন নিলে সমস্যা দ্রুত কমে।

গরমে ঠোঁট ফাটার কারণ

ঠোঁটে তেল গ্রন্থি নেই, তাই এর ত্বক সহজেই আর্দ্রতা হারায়। গরমে এই ক্ষতি আরও বাড়ে।

গরমের উপযোগী যত্ন

  1. পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট: দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান। বেশি ঘামলে ওরস্যালাইন, ডাবের পানি বা লেবু-পানিতে এক চিমটি লবণ ও চিনি মিশিয়ে নিন।
  2. পানিসমৃদ্ধ ফল: তরমুজ, শসা, বাঙ্গি ও কমলা নিয়মিত খান।
  3. হালকা বাম, SPF সহ: গরমে ভারী, তৈলাক্ত বাম অস্বস্তিকর লাগে। তাই SPF 15 বা তার বেশি সুরক্ষাযুক্ত হালকা লিপ বাম বেছে নিন। বাইরে যাওয়ার আগে লাগান এবং দুই-তিন ঘণ্টা পরপর, খাওয়ার পরও আবার লাগান।
  4. এসির ঘরে বাম হাতের কাছে রাখুন: ঠোঁট টানটান লাগার আগেই বাম লাগান।
  5. ঠোঁট চাটবেন না: ভেজা ভাব চাইলে বাম লাগান বা এক চুমুক পানি খান।

রাতে শোয়ার আগে পাতলা করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা শিয়া বাটারযুক্ত বাম লাগালে সকালে ঠোঁট নরম থাকে।

শীতকালে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায়

শীতে ঠোঁটের যত্নে আলাদা মনোযোগ লাগে, কারণ এই সময় সাধারণ লিপ বাম অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। শীতে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় হলো ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখা, রাতে গভীর পুষ্টি দেওয়া এবং দিনে বাইরের ঠান্ডা বাতাস থেকে ঠোঁট আড়াল রাখা।

শীতে ঠোঁট বেশি ফাটে কেন

ঠোঁটের ত্বক খুব পাতলা, আর এতে তেল গ্রন্থি প্রায় নেই। তাই শুষ্ক আবহাওয়ায় এটি সবার আগে আর্দ্রতা হারায়। শীতে এর পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে:

রাতের যত্ন ও দিনের সুরক্ষা

শীতে হালকা ময়েশ্চারাইজিং বামের বদলে একটু ঘন ও সিল করার মতো বাম বেছে নিন। Petroleum jelly ঠোঁটের ওপর সুরক্ষা স্তর তৈরি করে আর্দ্রতা আটকে রাখে। Shea butter যুক্ত বামও ঠোঁটকে নরম রাখতে সাহায্য করে।

রাতে ঘুমানোর আগে এই সহজ রুটিন মেনে চলুন:

  1. হালকা কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় ১ মিনিট ঠোঁটে ধরে রাখুন।
  2. মৃত ত্বক খুব বেশি জমে থাকলে নরম টুথব্রাশ বা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছুন। জোরে ঘষবেন না, আর সপ্তাহে একবারের বেশি নয়।
  3. পুরো ঠোঁটে পুরু করে petroleum jelly বা shea butter বাম লাগান, ঠোঁটের কোণসহ।
  4. সকালে ঠোঁট মুছে নতুন করে বাম দিন।

দিনের বেলায় এই অভ্যাসগুলো কাজে লাগবে:

এত যত্নের পরও ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়লে বা ঘা হলে ত্বক বিশেষজ্ঞকে দেখান।

অতিরিক্ত ঠোঁট ফাটা হলে কী করবেন

ঠোঁটের চামড়া পাতলা এবং এতে তেল গ্রন্থি নেই। তাই একবার বেশি ফেটে গেলে সেটি নিজে থেকে সারতে সময় লাগে। এই অবস্থায় বাড়তি কিছু করার চেয়ে ঠোঁটকে শান্ত রাখা ও সুরক্ষা দেওয়াই আসল কাজ।

রক্ত পড়া বা ঘা হলে প্রাথমিক যত্ন

ফাটা জায়গার চামড়া টেনে তুলবেন না, দাঁত দিয়ে কামড়াবেন না, আঙুল দিয়েও খুঁটবেন না। জোর করে চামড়া তুললে নিচের কাঁচা অংশ বের হয়ে যায়। এতে রক্ত পড়ে, ব্যথা বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে।

  1. পরিষ্কার হাত ধুয়ে নিন। হালকা কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় বা তুলা ঠোঁটে আলতো করে চেপে ধরুন।
  2. রক্ত পড়লে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে কয়েক মিনিট হালকা চাপ দিন।
  3. শুকনো ঠোঁটে পুরু মলম লাগান। Petroleum jelly বা lanolin-জাতীয় ointment এই কাজে ভালো, কারণ এটি আর্দ্রতা আটকে রাখে।
  4. দিনে অন্তত ৪-৫ বার এবং ঘুমানোর আগে একটু মোটা করে লাগান।
  5. মলমের কৌটায় আঙুল ডোবালে জীবাণু ঢুকতে পারে। তাই পরিষ্কার আঙুল বা কটন বাড ব্যবহার করুন, অথবা টিউবজাতীয় মলম নিন।

ঠোঁট ফাটা সারছে না কেন

যত্ন নেওয়ার পরেও ঠোঁট ফাটতে থাকলে হাতের কাছের জিনিসগুলোই আগে সন্দেহ করুন। অনেক সময় যে লিপ বামকে সমাধান ভাবছেন, সেটিই সমস্যা বাড়াচ্ছে।

একসঙ্গে একাধিক জিনিস বদলাবেন না। একটি করে বাদ দিলে কোনটি সমস্যা করছে বোঝা সহজ হয়।

এরপর অন্তত ৫-৭ দিন একই নিয়ম মেনে চলুন। ঘন ঘন পণ্য বদলালে ঠোঁট সারার সুযোগ পায় না। বেশি ফোলা, পুঁজ, ঠোঁটের কোণে ক্ষত বা ২ সপ্তাহেও উন্নতি না হলে ত্বক বিশেষজ্ঞকে দেখান। ঠোঁট ফাটার সাধারণ কারণ ও লক্ষণ নিয়ে আরও জানতে পারেন Mayo Clinic-এর এই নির্দেশিকায়।

ঠোঁট ফাটা বাড়ায় যেসব ভুল অভ্যাস

যত্ন নিয়েও ঠোঁট না সারলে দোষ প্রায়ই প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের। এগুলো বদলালেই ফল দ্রুত বোঝা যায়।

চাটা, কামড়ানো ও চামড়া ছেঁড়া

লালা শুকানোর সময় ঠোঁটের আর্দ্রতাও টেনে নেয়, ফলে ঠোঁট আরও শুকিয়ে যায়। শুকনো চামড়া টেনে ছিঁড়লে নিচের কাঁচা অংশ বেরিয়ে আসে, তখন ব্যথা ও রক্ত পড়ে। চামড়া উঠতে দিন নিজে থেকে, বা নরম হওয়ার পর হালকা হাতে মুছুন।

ঝাঁঝালো লিপ বাম

তীব্র সুগন্ধি, menthol বা camphor দেওয়া বাম প্রথমে ঠান্ডা লাগলেও সংবেদনশীল ঠোঁটে জ্বালা বাড়াতে পারে। ফলে বারবার লাগাতে হয়, আর ঠোঁট আরও খসখসে হয়। ফাটা ঠোঁটে সুগন্ধিহীন বাম বেছে নিন, যেমন petrolatum, ceramide বা shea butter যুক্ত। লাগালে জ্বালা করলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

ম্যাট লিপস্টিক: প্রস্তুতি ও তোলা ছাড়া

ম্যাট ফর্মুলা সাধারণত ঠোঁট বেশি শুষ্ক করে। এগুলো ব্যবহারের আগে পাতলা করে বাম লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। রাতে লিপস্টিক তুলে ঘুমাতে যান, নইলে রঙ জমে ঠোঁট আরও শুকনো দেখাবে।

ধূমপান, মুখ দিয়ে শ্বাস ও পানিশূন্যতা

কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি

বেশিরভাগ ফাটা ঠোঁট নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং আর পানি পানেই ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু লক্ষণ বলে দেয়, সমস্যাটা শুধু শুষ্কতা নয়।

সতর্ক লক্ষণ

নিচের যেকোনো একটি দেখা দিলে ঘরোয়া যত্নের ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন

প্রথমে ডার্মাটোলজিস্ট (চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ) দেখানোই সবচেয়ে ভালো। তিনি ঠোঁট দেখে এবং প্রয়োজনে আপনার ব্যবহৃত প্রসাধনী, খাবার ও অভ্যাসের ইতিহাস জেনে কারণ নির্ণয় করবেন। ঠোঁটের সমস্যা অনেক সময় ভিটামিনের ঘাটতি বা অ্যালার্জির সঙ্গেও জড়িত থাকে, তাই কারণ জানা জরুরি।

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় ব্যবহার করা লিপ বাম, টুথপেস্ট বা ওষুধের নাম সঙ্গে রাখুন। কবে থেকে সমস্যা শুরু, সেটিও জানাবেন।

নিজে নিজে স্টেরয়েড ক্রিম বা অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম লাগানো থেকে বিরত থাকুন। ভুল ওষুধে ত্বক পাতলা হতে পারে, আর সমস্যা সাময়িক চাপা পড়ে পরে আরও বাড়তে পারে।

উপসংহার

ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় আসলে তিনটি কাজের সমন্বয়: পর্যাপ্ত পানি পান, ঠোঁটকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ক্ষতিকর অভ্যাস ছাড়া। ঠোঁটে তেল গ্রন্থি নেই, তাই বাইরে থেকে যত্ন না দিলে এটি দ্রুত শুকিয়ে যায়।

আজ থেকেই শুরু করুন

এক সপ্তাহ নিয়মিত মানার পরও ঠোঁট না সারলে, বা ফাটা অংশে ঘা, রক্ত বা ফোলা থাকলে ত্বকের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Frequently asked questions

ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় কী? +

পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ঠোঁট চাটা বা ছেঁড়া বন্ধ করুন এবং দিনে ও রাতে মৃদু লিপ বাম লাগান। সপ্তাহে একবার খুব হালকা এক্সফোলিয়েশন করা যায়।

ঠোঁট ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় কোনগুলো? +

মধু, ঘি, নারকেল তেল বা অ্যালোভেরা জেল অনেকের জন্য আরাম দেয়। প্রথমে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিন, জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

গরমে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় কী? +

গরমে পানিশূন্যতা ও রোদ ঠোঁট শুকিয়ে দেয়, তাই বেশি পানি পান করুন। বাইরে যাওয়ার আগে SPF যুক্ত হালকা লিপ বাম লাগান।

অতিরিক্ত ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় কী? +

ঠোঁটের চামড়া তুলবেন না এবং ঘন ময়েশ্চারাইজিং বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি নিয়মিত লাগান। কয়েক সপ্তাহেও না সারলে বা রক্ত পড়লে ডাক্তার দেখান।

শীতকালে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় কী? +

শীতে রাতে ঘন লিপ বাম বা লিপ মাস্ক লাগান এবং দিনে ঠোঁট ঢেকে রাখুন। গরম পানি ও ঠোঁট চাটা এড়িয়ে চলুন।

শীতে ঠোঁট ফাটা দূর করার উপায় কী? +

শীতে বাতাস শুষ্ক থাকে, তাই ঘনঘন লিপ বাম লাগানো জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান ও ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখা সাহায্য করে।

ঠোঁট ফাটলে কি লিপস্টিক ব্যবহার করা ঠিক? +

ফাটা ঠোঁটে ম্যাট লিপস্টিক ঠোঁট আরও শুকিয়ে দিতে পারে। আগে লিপ বাম লাগিয়ে ময়েশ্চারাইজিং লিপস্টিক ব্যবহার করুন এবং রাতে ভালোভাবে তুলে ফেলুন।

Share this article

Keep reading