শীতে ত্বক ভালো রাখতে করণীয়: ধাপে ধাপে সহজ গাইড
শীত আসতেই হাতের চামড়া খসখসে হয়ে যায়, গোসলের পর গা চুলকায়, ঠোঁট ফেটে যায়, আর মুখে ময়েশ্চারাইজার দিলেও দুপুরের মধ্যে টান ধরে। বাংলাদেশে প্রায় সবাই কোনো না কোনো বছর এই সমস্যায় পড়েন। তাই প্রশ্নটা
In this article
- শীতে কেন ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও টানটান হয়ে যায়
- শীতে ত্বক ভালো রাখতে করণীয়: ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন
- শীতের সকাল ও রাতের স্কিনকেয়ার রুটিন
- ক্লিনজার ও গোসলের অভ্যাসে যে পরিবর্তন দরকার
- শীতের ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের গাইড: কোন উপাদান কী কাজ করে
- শীতে ঠোঁট, হাত, পা ও শরীরের বাড়তি যত্ন
- খাবার, পানি ও জীবনযাপন: ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন
- শীতে ত্বকের সাধারণ ভুল এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
- উপসংহার
শীত আসতেই হাতের চামড়া খসখসে হয়ে যায়, গোসলের পর গা চুলকায়, ঠোঁট ফেটে যায়, আর মুখে ময়েশ্চারাইজার দিলেও দুপুরের মধ্যে টান ধরে। বাংলাদেশে প্রায় সবাই কোনো না কোনো বছর এই সমস্যায় পড়েন। তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়: শীতে ত্বক ভালো রাখতে করণীয় কী, আর কোনটা সত্যিই কাজ করে?
উত্তরটা সাধারণত একটি দামি প্রোডাক্টে নেই। আছে ঠিক ক্রমে সহজ কয়েকটি ধাপে: মৃদু ক্লিনজার, ত্বক ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার, আর দিনে সানস্ক্রিন। সঙ্গে গোসল ও খাওয়াদাওয়ার ছোট কিছু অভ্যাস বদলাতে হয়।
এই লেখায় আপনি পাবেন:
মনে রাখবেন, এখানকার পরামর্শ সাধারণ স্কিনকেয়ার নির্দেশনা, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। চুলকানি অনেক দিন না কমলে, ত্বক লালচে হয়ে ফাটলে বা ঘা হলে ত্বক বিশেষজ্ঞ (ডার্মাটোলজিস্ট) দেখান।
চলুন, প্রথমে বুঝে নিই শীতে আপনার ত্বকের আসলে কী হয়।
শীতে কেন ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও টানটান হয়ে যায়
বাতাসের আর্দ্রতা কমলে ত্বকে কী ঘটে
শীতে বাতাসে জলীয় বাষ্প কমে যায়। শুষ্ক বাতাস ত্বকের উপরের স্তর থেকে আর্দ্রতা টেনে নেয়, ফলে ত্বক দ্রুত পানি হারায়। এ কারণেই গোসল বা মুখ ধোয়ার কিছুক্ষণ পরেই ত্বক টানটান লাগে।
ত্বকের বাইরের স্তরকে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার। এটি ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ধুলা ও জীবাণু ঠেকায়। আর্দ্রতা কমলে এই ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন দেখা দেয়:
তৈলাক্ত ত্বকেও এটি হতে পারে। ওপরে তেল চকচক করলেও ভেতরে পানির ঘাটতি থাকতে পারে।
গরম পানি, হিটার ও ঘরের ভেতরের পরিবেশ
ঠান্ডার দিনে গরম পানিতে গোসল আরামের, কিন্তু ত্বকের জন্য নয়। বেশি গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে, ব্যারিয়ার আরও দুর্বল হয়। রুম হিটার বা বন্ধ ঘরের শুষ্ক বাতাসও একই ক্ষতি করে।
পানি পানের অভ্যাসও শীতে বদলে যায়। তৃষ্ণা কম লাগে, তাই অনেকেই কম পানি খান। এতে ত্বক ভেতর থেকেও আর্দ্রতা কম পায়।
ছোট কয়েকটি পরিবর্তন শুরুতেই সাহায্য করবে:
- গোসলের পানি কুসুম গরম রাখুন, আর সময় ১০ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন।
- গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
- হিটার চালালে ঘরে এক বাটি পানি রাখুন।
- তৃষ্ণা না পেলেও সারাদিন অল্প অল্প করে পানি খান।
শীতের জন্য ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে চাইলে দামের তুলনা দেখতে পারেন Simple Moisturizer-এর দামের গাইডে। ত্বক ফেটে রক্ত বের হলে বা চুলকানি কমতে না চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতে ত্বক ভালো রাখতে করণীয়: ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন
শীতের যত্ন শুরুর আগে নিজের ত্বকের ধরন জানা দরকার। এর সহজ উপায় হলো: রাতে মুখ হালকা ক্লিনজারে ধুয়ে কিছু না মেখে ঘুমান। সকালে আয়নায় দেখুন।
মনে রাখবেন, শীতে ত্বকের ধরন সাময়িকভাবে বদলে যেতে পারে। গরমে তৈলাক্ত ত্বকও শীতে টানটান লাগতে পারে।
শুষ্ক ও খুব রুক্ষ ত্বক
এই ত্বকে প্রাকৃতিক তেল কম থাকে, তাই আর্দ্রতা দ্রুত বেরিয়ে যায়। হালকা জেল ময়েশ্চারাইজার সাধারণত যথেষ্ট হয় না, একটু ঘন ক্রিম লাগবে।
- মুখ ধোয়ার পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই হাইড্রেটিং সিরাম বা এসেন্স লাগান। এতে Hyaluronic Acid বা Glycerin থাকলে ভালো।
- এরপর Ceramide বা Shea Butter যুক্ত ক্রিম মাখুন। পুরো মুখের জন্য মটরদানার দেড়-দুই গুণ পরিমাণ যথেষ্ট।
- রাতে খুব রুক্ষ জায়গায় (গাল, নাকের পাশ) পাতলা করে আরেক স্তর দিন।
এই স্তরে স্তরে লাগানোই লেয়ারিং। প্রথমে পাতলা ও পানিভিত্তিক, শেষে ঘন ও সিল করার মতো পণ্য, এই ক্রমটি মেনে চলুন। ক্রিম বাছতে চাইলে DABO T-Tree Cica Relief Moisturizer Cream-এর মতো আরামদায়ক ক্রিম দেখতে পারেন।
তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বক
অনেকেই ভাবেন তেলতেলে ত্বকে শীতে ময়েশ্চারাইজার লাগে না। এটি ভুল ধারণা। আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক অনেক সময় আরও বেশি তেল তৈরি করে, ফলে একই সঙ্গে চকচকে ও টানটান লাগে।
সংবেদনশীল ত্বক
এই ত্বকের সুরক্ষা স্তর সহজে দুর্বল হয়, তাই কম পণ্য ও সরল ফর্মুলাই নিরাপদ। ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও দিনে সানস্ক্রিন, এই তিনটিই শুরুতে যথেষ্ট।
লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি কয়েক দিনেও না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শীতের সকাল ও রাতের স্কিনকেয়ার রুটিন
শীতে ত্বকের জন্য বেশি পণ্য লাগে না, লাগে সঠিক ধাপ আর নিয়মিততা। সকালে কাজ হলো ত্বকের আর্দ্রতা আটকে রাখা ও সুরক্ষা দেওয়া। রাতে কাজ হলো ক্ষতি মেরামত করা।
সকালের ধাপ: ক্লিনজ, ময়েশ্চারাইজ, সানস্ক্রিন
- হালকা ক্লিনজ: ত্বক খুব শুষ্ক হলে সকালে শুধু কুসুম গরম বা সাধারণ পানিতে মুখ ধোওয়াই যথেষ্ট। তৈলাক্ত বা কম্বিনেশন ত্বকে মৃদু, ক্রিমি বা জেল ক্লিনজার ব্যবহার করুন। ফেনা বেশি হয় এমন ক্লিনজার এড়ান, কারণ তা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তুলে নেয়।
- ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার: তোয়ালে দিয়ে আলতো চেপে পানি মুছুন, তবে ত্বক একটু ভেজা রাখুন। এক মিনিটের মধ্যে হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা গ্লিসারিনযুক্ত সিরাম লাগিয়ে ময়েশ্চারাইজার দিন। এতে ত্বকের ভেতরের পানি আটকে থাকে।
- সানস্ক্রিন: মুখ ও গলায় দুই আঙুল পরিমাণ সানস্ক্রিন লাগান।
অনেকে ভাবেন শীতে রোদ নরম, তাই সানস্ক্রিন লাগে না। কিন্তু UVA রশ্মি মেঘ ও জানালার কাচ ভেদ করেও ত্বকে পৌঁছায়, আর এটি দাগ ও অকালবার্ধক্যের বড় কারণ। শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজিং বা সুদিং সানস্ক্রিন ভালো। উদাহরণ হিসেবে Iunik Centella Calming Daily Sunscreen সংবেদনশীল ত্বকে আরামদায়ক হতে পারে। বাইরে বেশিক্ষণ থাকলে দুই-তিন ঘণ্টা পর আবার লাগান।
রাতের ধাপ: ক্লিনজ, সিরাম, ক্রিম
- ডাবল ক্লিনজ (প্রয়োজনে): সানস্ক্রিন বা মেকআপ থাকলে প্রথমে অয়েল বা বাম ক্লিনজারে তুলে নিন। এরপর মৃদু ক্লিনজারে ৩০-৬০ সেকেন্ড ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
- হাইড্রেটিং সিরাম: ভেজা ত্বকে ৩-৪ ফোঁটা সিরাম লাগান। হায়ালুরনিক অ্যাসিড, প্যানথেনল বা সেরামাইড থাকলে ভালো।
- ঘন ক্রিম: সিরামের ওপর আঙুলের ডগা পরিমাণ ক্রিম দিন, যা পানি আটকে রাখে। নাকের পাশ, গাল ও চোয়ালের মতো ফাটা-খসখসে জায়গায় পাতলা আরেক স্তর দিতে পারেন।
রাতে রেটিনল বা অ্যাসিড ব্যবহার করলে শীতে প্রতি রাতে না লাগিয়ে একদিন পরপর লাগানো নিরাপদ। ত্বকে জ্বালা বা চামড়া ওঠা দেখা দিলে ব্যবহার কমিয়ে দিন।
সপ্তাহে কতবার এক্সফোলিয়েট করবেন
শীতে মরা কোষ জমে ত্বক নিস্তেজ ও খসখসে দেখায়, আর জমে থাকা মরা কোষ ময়েশ্চারাইজারকেও ঠিকমতো কাজ করতে দেয় না। তবে বেশি ঘষাঘষি ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে।
রুটিন মানার পরও ত্বক ক্রমাগত চুলকালে, লাল হয়ে গেলে বা ফাটা জায়গা থেকে রস বের হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ক্লিনজার ও গোসলের অভ্যাসে যে পরিবর্তন দরকার
শীতে শুধু ময়েশ্চারাইজার বাড়ালেই হয় না। যে ক্লিনজারে মুখ ধুচ্ছেন বা যে পানিতে গোসল করছেন, সেটাই অনেক সময় ত্বকের তেল আর আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। তাই আগে ধোয়া আর গোসলের অভ্যাস ঠিক করুন।
মুখ ধোয়ার সঠিক নিয়ম
ফেনা বেশি হওয়া বা ধোয়ার পর মুখ "কুটকুট" করা ক্লিনজার শীতে এড়িয়ে চলাই ভালো। এমন ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তুলে নেয়। বেছে নিন মৃদু, সালফেটমুক্ত ও সুগন্ধিহীন ক্লিনজার, যেমন Care:nel Cicavita B5 Salicylic Acid Gentle Cleanser। তবে খুব শুষ্ক বা ফাটা ত্বকে স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার রোজ দুবেলা না লাগিয়ে আগে দেখুন ত্বক কেমন সাড়া দেয়।
- সকালে শুধু পানি বা মৃদু ক্লিনজারে মুখ ধুন। ত্বক বেশি শুষ্ক হলে পানিই যথেষ্ট হতে পারে।
- রাতে মেকআপ বা সানস্ক্রিন থাকলে ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
- আঙুলের ডগা দিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড আলতো করে ম্যাসাজ করুন, ঘষবেন না।
- কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছুন।
কুসুম গরম পানি ও গোসলের সময়
শীতে গরম পানির আরাম লোভনীয়, কিন্তু খুব গরম পানি ত্বকের তেলের স্তর নষ্ট করে। ফলে ত্বক দ্রুত শুকায় ও চুলকায়। তাই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। মুখে গরম পানি না দেওয়াই ভালো।
শরীরের জন্য ঘন লোশন বেছে নিতে পারেন, যেমন Nivea Derma SOS Care Body Lotion। এত যত্নের পরও চুলকানি, লালচে দাগ বা ফাটা ত্বক না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শীতের ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের গাইড: কোন উপাদান কী কাজ করে
ময়েশ্চারাইজারের কৌটার সামনের দিকের দাবির চেয়ে পেছনের উপাদানের তালিকা বেশি কাজের। শীতে ভালো ময়েশ্চারাইজার তিনটি কাজ করে: ত্বকে পানি টানে, ত্বক নরম রাখে এবং সেই আর্দ্রতা আটকে রাখে।
হিউমেক্ট্যান্ট: glycerin ও hyaluronic acid
হিউমেক্ট্যান্ট বাতাস ও ত্বকের গভীর স্তর থেকে পানি টেনে ত্বকের উপরের স্তরে ধরে রাখে। Glycerin ও hyaluronic acid এই দলের পরিচিত উপাদান।
শুধু হিউমেক্ট্যান্ট যথেষ্ট নয়। শীতের শুষ্ক বাতাসে সেই পানি আবার উবে যেতে পারে, তাই উপরে একটি সিল করার স্তর দরকার। মুখ হালকা ভেজা থাকতেই লাগালে হিউমেক্ট্যান্ট ভালো কাজ করে।
ইমোলিয়েন্ট ও অক্লুসিভ: ceramide, shea butter, petroleum jelly
তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ মুখে ভারী অক্লুসিভ ছিদ্র বন্ধ করতে পারে। সেক্ষেত্রে ceramide ও glycerin যুক্ত হালকা জেল-ক্রিম বেছে নিন, অথবা ভারী কিছু শুধু শুকনো জায়গায় ব্যবহার করুন।
লোশন, ক্রিম ও বামের পার্থক্য
তাই শুষ্ক ত্বকে শীতে সাধারণত ক্রিম বা বাম লোশনের চেয়ে ভালো কাজ করে।
নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট
- কানের পেছনে বা কবজির ভেতরের দিকে অল্প পরিমাণ লাগান।
- ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।
- লালচে ভাব, জ্বালা বা চুলকানি না হলে মুখে ব্যবহার শুরু করুন।
সুগন্ধি বা অ্যালকোহলযুক্ত পণ্যে সংবেদনশীল ত্বকে সমস্যা হতে পারে। প্যাচ টেস্টে প্রতিক্রিয়া হলে পণ্যটি বন্ধ করুন। সমস্যা না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শীতে ঠোঁট, হাত, পা ও শরীরের বাড়তি যত্ন
মুখের তুলনায় ঠোঁট, হাত ও গোড়ালির ত্বকে তেলগ্রন্থি কম, তাই শীতে এসব জায়গা সবার আগে শুকিয়ে যায়। মুখের রুটিনের পাশাপাশি এই অংশগুলোর জন্য আলাদা কয়েক মিনিট রাখুন।
ফাটা ঠোঁটের যত্ন
ঠোঁটে তেলগ্রন্থি প্রায় নেই, তাই আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিজে থেকে সাহায্য করতে হয়। শুকনো ঠোঁট জিভ দিয়ে ভেজালে লালা উবে যাওয়ার সময় ঠোঁট আরও শুকিয়ে যায়।
হাত ও পায়ের গোড়ালি
বারবার হাত ধোয়ায় ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়। তাই প্রতিবার হাত ধোয়ার পর hand cream লাগানো অভ্যাস করুন। বাসন মাজা বা কাপড় কাচার সময় গ্লাভস পরুন, আর ঠান্ডায় বের হলে সুতি বা উলের গ্লাভস ব্যবহার করুন।
গোড়ালির চামড়া মোটা, তাই ফাটলও গভীর হয়। রাতে এভাবে যত্ন নিন:
- কুসুম গরম পানিতে ৫-১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন।
- নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে গোড়ালিতে ঘন ক্রিম বা ointment লাগান।
- সুতি মোজা পরে ঘুমান, যাতে ক্রিম ত্বকে থাকে।
পিউমিস স্টোন বা ফুট ফাইল সপ্তাহে একবারের বেশি নয়, আর হালকা হাতে ব্যবহার করুন।
শরীরের চুলকানি ও খসখসে ভাব
গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে হালকা মুছে নিন, যাতে ত্বক সামান্য ভেজা থাকে। এই অবস্থায় body lotion বা ক্রিম লাগালে ত্বকে আর্দ্রতা ভালো আটকে থাকে। খুব শুষ্ক ত্বকে লোশনের চেয়ে ঘন ক্রিম বা বডি বাটার বেশি কাজ করে।
হাত-পায়ে বের হওয়ার আগের সময়টুকু ছাড়াও রোদে যাওয়ার আগে খোলা অংশে সানস্ক্রিন ভুলবেন না। হালকা টেক্সচারের জন্য I'm from Rice Sunscreen একটি উদাহরণ হতে পারে।
চুলকানির সঙ্গে লালচে র্যাশ, ফোলা বা ঘা দেখা দিলে, অথবা কয়েক সপ্তাহ যত্নেও না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
খাবার, পানি ও জীবনযাপন: ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন
শীতে ক্রিম আর লোশন ত্বকের বাইরের স্তর নরম রাখে। কিন্তু ত্বকের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার খাবার, ঘুম আর ঘরের পরিবেশের ওপর।
পর্যাপ্ত পানি ও শীতকালীন খাবার
শীতে ঘাম কম হয় বলে পিপাসাও কম লাগে। তাই তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি খান। হাতের কাছে একটি পানির বোতল রাখলে মনে রাখা সহজ হয়। কুসুম গরম পানি বা হালকা ঠান্ডা, যেটা আরামদায়ক লাগে সেটাই ভালো।
পানির পাশাপাশি পাতে রাখুন মৌসুমি ফল ও সবজি:
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি কমিয়ে দিলে ত্বকের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। চা-কফি পুরোপুরি ছাড়তে হবে না, তবে প্রতি কাপের পর এক গ্লাস পানি খেলে ভারসাম্য থাকে।
ঘুম, স্ট্রেস ও ঘরের পরিবেশ
ঘুমের সময়ই ত্বক নিজেকে মেরামত করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রতি রাতে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ভালো। ঘুমের অভাব আর দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে ত্বক নিস্তেজ দেখায় এবং শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। ঘুমানোর আগে ফোন সরিয়ে রাখা এবং রাতের স্কিনকেয়ার রুটিনকে একটু শান্ত অভ্যাস হিসেবে নেওয়া কাজে দেয়।
ঘরের বাতাসও ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে হিটার বা এসি চালানো ঘরে। এর জন্য:
- শোবার ঘরে humidifier থাকলে রাতে চালু রাখুন।
- না থাকলে ঘরের এক কোণে পানিভরা চওড়া একটি বাটি রাখুন। এতে বাতাসে কিছুটা আর্দ্রতা যোগ হয়।
- হিটারের সামনে বেশিক্ষণ বসবেন না এবং বিছানা হিটারের খুব কাছে রাখবেন না।
এসব অভ্যাসের পরও যদি ত্বক অনেক দিন ধরে লালচে, চুলকানিযুক্ত বা ফাটা থাকে, তবে নিজে নিজে সমাধান না খুঁজে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
শীতে ত্বকের সাধারণ ভুল এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
শীতে ত্বক শুষ্ক লাগলে অনেকেই স্ক্রাব আর একসঙ্গে একাধিক অ্যাক্টিভ প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে, ফলে জ্বালা ও খসখসে ভাব আরও বাড়ে। স্ক্রাব বা অ্যাসিড সপ্তাহে ১-২ বারের বেশি নয়। Retinol, AHA/BHA একই রাতে না মিলিয়ে আলাদা দিনে ব্যবহার করুন।
তৈলাক্ত ত্বকের অনেকে ভাবেন শীতে ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যায়। অথচ ত্বক আর্দ্রতা হারালে বাড়তি তেল তৈরি করতে পারে, আর শীতের রোদেও UV থাকে। হালকা জেল ময়েশ্চারাইজার এবং Innisfree Tone Up No Sebum Sunscreen-এর মতো তেলতেলে ভাব কমানো সানস্ক্রিন বেছে নিতে পারেন।
আরেকটি ভুল হলো ঘরোয়া টোটকা। এগুলো এড়িয়ে চলুন:
সতর্ক সংকেত: কখন ডাক্তার দেখাবেন
নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরও সমস্যা না কমলে দেরি করবেন না। নিচের লক্ষণগুলোতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো:
এগুলো এক্জিমা, সোরিয়াসিস বা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য আলাদা চিকিৎসা লাগে। নিজে নিজে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
উপসংহার
শীতে ত্বক ভালো রাখার মূল কথা সহজ: নরম ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও পর্যাপ্ত পানি। কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে এবং গোসলের পরপর ত্বক ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা বেশিক্ষণ ধরে থাকে।
আজ থেকেই শুরু করুন তিন ধাপে
- মৃদু, ফেনা কম হয় এমন ক্লিনজারে মুখ ধুয়ে নিন।
- ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগান।
- সকালে বের হওয়ার আগে Cosrx Aloe 54.2 Aqua Tone-Up Sunscreen SPF50+-এর মতো হালকা সানস্ক্রিন দিন।
নতুন কিছু যোগ করার আগে অন্তত দুই সপ্তাহ এই রুটিন নিয়মিত মানুন। ত্বক কেমন সাড়া দিচ্ছে দেখে ধীরে ধীরে বদল আনুন। জ্বালা, ফাটা বা চুলকানি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Frequently asked questions
শীতে মুখের ত্বক শুষ্ক হলে প্রথমে কী করব? +
মুখ ধোয়ার জন্য মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন এবং ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান। খুব গরম পানি ও কড়া ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলুন।
শীতে কি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা দরকার? +
হ্যাঁ, শীতেও রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো, কারণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সারা বছরই থাকে। হালকা টেক্সচারের সানস্ক্রিন বেছে নিতে পারেন।
শীতে তৈলাক্ত ত্বকেও কি ময়েশ্চারাইজার লাগবে? +
লাগবে, তবে হালকা ও জেল বা লোশন জাতীয় ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। ত্বকে আর্দ্রতা কম থাকলে তা বাড়তি তেল তৈরির কারণ হতে পারে।
শীতে গোসলের সময় কেমন পানি ব্যবহার করা উচিত? +
কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন এবং গোসল অল্প সময়ে শেষ করুন। খুব গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে ত্বক আরও শুষ্ক করতে পারে।
শীতে ঠোঁট ফাটা কীভাবে কমানো যায়? +
নিয়মিত লিপ বাম লাগান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ঠোঁট চাটা বা ছেঁড়া থেকে বিরত থাকুন। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতে ত্বকের জন্য কোন উপাদান ভালো? +
glycerin, hyaluronic acid, ceramide ও shea butter জাতীয় উপাদান সাধারণত আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নিন।
শীতে ত্বকের চুলকানি কমছে না, কী করব? +
মৃদু ক্লিনজার ও ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে কয়েকদিন দেখুন। চুলকানি, লালচে ভাব বা ফাটা দাগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।